ইবাদি ইসলাম ধর্মের একটি স্বতন্ত্র ও প্রাচীন ধারা। এটি সুন্নি বা শিয়া—কোনোটির সাথেই পুরোপুরি মেলে না, বরং ইসলামের প্রাথমিক যুগে গড়ে ওঠা একটি আলাদা মতধারা হিসেবে পরিচিত। এই ধারার নামকরণ করা হয়েছে আবদুল্লাহ ইবন ইবাদ আত-তামীমি–এর নামানুসারে, যদিও ইবাদি চিন্তাধারার বিকাশে জাবির ইবন যায়েদ-এর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ইবাদি মতধারার মূল বৈশিষ্ট্য হলো সংযম, নৈতিকতা ও সমাজকেন্দ্রিক ইসলামচর্চা। তারা কুরআনকে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব হিসেবে মানে এবং হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করে। শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে ইবাদিরা মনে করে, নেতা হতে হলে কেবল বংশ নয়—নৈতিক যোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতাই মুখ্য।
ইবাদি বিশ্বাসে মুসলমানদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সামাজিক সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ঐতিহাসিকভাবে ইবাদিদের খারিজি আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত করা হলেও, বর্তমান ইবাদি সমাজ চরমপন্থা ও সহিংসতা থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে অবস্থান করে।
বর্তমানে ইবাদি মুসলমানদের বড় অংশ বসবাস করে—
(১) ওমান (রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রধান মতধারা)
(২) তানজানিয়া (জাঞ্জিবার)
(৩) আলজেরিয়া
(৪) লিবিয়া
(৫) তিউনিসিয়ার কিছু অঞ্চলে
সংক্ষেপে: ইবাদি ইসলাম হলো ইসলামের এক প্রাচীন, স্বতন্ত্র ও তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত ধারা—যা সুন্নি মাজহাব বা শিয়া মতবাদের মতো নয়, বরং ইসলামের প্রাথমিক রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক থেকে বিকশিত একটি আলাদা পথ।
আরও পড়ুনঃ ইসলাম ধর্মের শাফেয়ি ও হাম্বলি মতবাদ








Leave a Reply